Published : 05 Aug 2026, 01:16 AM
২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই সহিংসতা ঘটে, যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া অহিংস আন্দোলনকে তৎকালীন সরকার এবং তার অঙ্গসংগঠন নৃশংসভাবে দমন করে। এই সময়ে বহু মানুষ প্রাণ হারান। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যে কয়েকটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যাত্রাবাড়ীর এক পরিবারে, যেখানে চার বছরের ছোট্ট আহাদ মা-বাবার সঙ্গে থাকত, সেখানে একই দিনে বাড়ির সামনেই তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আহাদ যখন মায়ের পাশে ছিল, হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাবার অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়; তার ডান চোখে গুলি লেগে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেও অস্ত্রধারীদের বাধা আসে এবং শেষ পর্যন্ত শিশুটি সেখানেই মারা যায়।
ঢাকার মিরপুর কাফরুল এলাকার চারদিকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা যেত। বিকট শব্দে আকাশে উড়ত হেলিকপ্টার, আর কান্নার গ্যাসের ধোঁয়া ঘরে প্রবেশ করত। নিরাপত্তার জন্য জানালা বন্ধ করা ছাড়া উপায় ছিল না। এক সময় সিয়াম যখন জানালা বন্ধ করতে যাচ্ছিল, তখন বাইরে থেকে গুলি এসে তার মাথায় লাগে। জানালার পাশে রাখা বইপত্র ও খেলনাগুলো রক্তে ভেসে যায়। এই সময়েই ঢাকার মধ্যে আরও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে—সাড়ে ছয় বছর বয়সী রিয়া গোপ মারা যায়। রিয়া নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটির এক চারতলা বাড়ির ওপরের তলায় থাকত। সেদিন রিয়া ছাদে খেলা করছিল, ঠিক তখনই এলাকায় শুরু হয় সংঘর্ষ।
মেয়েকে ঘরে আনতে গেলে বাবা দীপক কুমার গোপ ছাদের দিকে যান।就在 সেই মুহূর্তে কোথা থেকে ছুটে আসে ঘাতক বুলেট এবং মেয়েটি বাবার কোলে লুটিয়ে পড়ে যায়। এই সকল নৃশংসতার মাঝেও, এই আন্দোলনের সময় বহু মানুষ নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য রুখে দাঁড়ায়। ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এই ঘটনাগুলি স্মরণ করিয়ে দেয় যে কীভাবে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের সময়ে কত অসংখ্য নিরীহ মানুষের জীবন এভাবে কেড়ে নেওয়া হলো।।
জাতীয় আর্থ অলিম্পিয়াড ২০২৬: পরিবেশ বিজ্ঞানে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বীকৃতি